আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী-১ (ডোমার ও ডিমলা) আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ইঞ্জিনিয়ার শাহরীন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে মনোনয়ন না দিলে গণপদত্যাগ ও অবরোধ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ডিমলা উপজেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম লেমন।
আশিকুল ইসলাম লেমন বলেন, “নীলফামারী-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার শাহরীন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ভাইকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে মনোনয়ন না দেওয়া হলে ডিমলার সকল নেতাকর্মী একযোগে গণপদত্যাগ করবো। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত ডোমার ও ডিমলার মাটিতে তুহিন ভাই ছাড়া অন্য কাউকে আমরা মেনে নেবো না।” দাবি আদায় না হলে আগামী ২৬ ডিসেম্বর অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেন তিনি।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ডিমলা উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার শাহরীন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে পুনরায় মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি ডিমলা উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিমলা স্মৃতি অম্লান চত্বরে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়।
যুবদল নেতা লেমন বলেন, দীর্ঘদিন পর ডোমার ও ডিমলাবাসী যখন আশায় বুক বেঁধেছে যে আসন্ন নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার তুহিনকে নির্বাচিত করে এই অবহেলিত জনপদকে উন্নয়নের ধারায় আনা যাবে, ঠিক তখনই একটি ‘কুচক্রী মহল’ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাদের দাবি, ওই মহলের প্ররোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে তুহিনের নাম বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ অপরিচিত একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরও বলেন, “যাকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে তিনি বিগত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা দমন-পীড়নের সময় আমাদের পাশে ছিলেন না। আমরা তাকে মানি না। আমাদের নেতা ইঞ্জিনিয়ার শাহরীন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ডিমলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সবুজ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হালিমুল ইসলাম রাসেল, গয়াবাড়ি ইউনিয়ন মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নাজনিন আক্তারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ (ডোমার ও ডিমলা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থিত জোট প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ইঞ্জিনিয়ার শাহরীন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে বাদ দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
